বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিস্তৃত, বিশ্ববিখ্যাত একটি বনাঞ্চল — সুন্দরবন। এই বন শুধুমাত্র পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন বলেই নয়, বরং এর জীববৈচিত্র্য, পরিবেশগত গুরুত্ব এবং প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে বহু বছর ধরেই সমগ্র বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছে।
সুন্দরবনের আয়তন কত?
সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে বাংলাদেশ অংশে রয়েছে প্রায় ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার এবং বাকি অংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিস্তৃত। এটি গঙ্গা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর মোহনায় গঠিত এবং বিশ্বের অন্যতম জীববৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চল।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য
সুন্দরবন যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত জাদুঘর। এখানে রয়েছে: বাঘ (বিশ্ববিখ্যাত রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার), হরিণ, বানর, লোনা পানির কুমির, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, সাপ ও মাছ। প্রায় ৩৩৪ প্রজাতির গাছ এবং ৪৫০টির বেশি বন্যপ্রাণী ও পাখির দেখা মেলে। এই বনের বিশেষ গাছগুলোর মধ্যে সুন্দরী গাছ অন্যতম। অনেকে মনে করেন, এই গাছের নাম থেকেই “সুন্দরবন” নামটির উৎপত্তি। সুন্দরবন পরিবেশ রক্ষায় বিশাল ভূমিকা রাখে, বিশেষত উপকূলীয় অঞ্চলকে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে সুরক্ষা দেয়।
সুন্দরবনের মধু
সুন্দরবনের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ হলো মধু। প্রতিবছর মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত মৌয়ালরা বনের বিভিন্ন অংশে গিয়ে মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন। এই মধু খাঁটি, পুষ্টিকর ও ঔষধিগুণে ভরপুর। এটি শুধু দেশের অভ্যন্তরে নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও চাহিদাসম্পন্ন। স্থানীয় জীবিকায় এর অবদানও বিশাল।
সুন্দরবন দিবস কবে?
বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় ‘সুন্দরবন দিবস’। এই দিনটির মূল উদ্দেশ্য হলো সুন্দরবনের সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং বনকে ঘিরে জীবিকা নির্বাহকারী মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সুন্দরবনের কত শতাংশ বাংলাদেশে পড়েছে?
সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬০ শতাংশ অংশ বাংলাদেশে অবস্থিত। ফলে এই বন বাংলাদেশের পরিবেশ, জলবায়ু ও অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা কত?
সুন্দরবনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সালের জরিপে বাংলাদেশ অংশে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা ১২৫টি শনাক্ত হয়েছে। ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ১১৪টি। এ বৃদ্ধি সুন্দরবন সংরক্ষণে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।
উপসংহার
সুন্দরবন শুধু একটি বন নয় — এটি আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের গর্ব, জীববৈচিত্র্যের আধার এবং উপার্জনের উৎস। এই বনকে টিকিয়ে রাখা মানে আমাদের পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলা। “সুন্দরবন বাঁচান, প্রকৃতি বাঁচান, ভবিষ্যৎ গড়ুন।”


















































