কোপাদেল রে’র ফাইনাল নিয়ে ঘটে গেল একের পর এক নাটকীয় ঘটনা। ম্যাচ শুরুর আগেই রেফারিকে ঘিরে আপত্তি তুলেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে গেছে তারা। ম্যাচের এক পর্যায়ে রেফারি বুরগোসের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বসেন রিয়ালের ফরাসি ডিফেন্ডার অ্যান্তনিও রুডিগার। রেফারির দিকে একটি বস্তু ছুড়ে মারেন তিনি, যা পরে জানা যায় বরফের টুকরো ছিল।
রেফারির প্রতি এমন আচরণের জন্য সরাসরি লাল কার্ড দেখেন রুডিগার। ম্যাচ শেষে আরও দুই রিয়াল খেলোয়াড়, লুকাস ভাসকেজ এবং জুড বেলিংহ্যামকেও লাল কার্ড দেখান রেফারি। তবে সবচেয়ে বড় শাস্তির মুখে পড়তে পারেন রুডিগার। বড় ধরনের শাস্তির আশঙ্কা করেই হয়তো পরে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের আচরণের জন্য রুডিগারকে ৪ থেকে ১২ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে। তবে শৃঙ্খলা কমিটি যদি ঘটনাটিকে ‘রেফারির প্রতি আক্রমণ’ হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এক বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে।
রুডিগার তার ক্ষমাপ্রার্থনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ লেখেন,
“গত রাতের আমার আচরণের কোনো অজুহাত নেই। আমি এর জন্য অত্যন্ত দুঃখিত। দ্বিতীয়ার্ধ থেকে আমরা দারুণ খেলছিলাম। কিন্তু ১১১ মিনিটের পর আমি আর দলকে সাহায্য করতে পারিনি। শেষ বাঁশি বাজার আগেই আমি একটি গুরুতর ভুল করেছি। রেফারি এবং যাদের আমি হতাশ করেছি, তাদের কাছে আমি আবারও দুঃখ প্রকাশ করছি।”
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রিয়াল কোচ কার্লো আনচেলত্তি রুডিগার সম্পর্কে তেমন কিছু না বললেও উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত সময়ের ক্লান্তির কারণে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল।
১০১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রুডিগার যদি শাস্তি পান, তাহলে ৪ থেকে ১২ ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে পারেন। এই অনুচ্ছেদে ‘হালকা সহিংসতা’র কথা বলা হয়েছে। ফলে বাকি মৌসুমে — যেখানে লা লিগায় এখনও পাঁচ রাউন্ড বাকি — হয়তো রুডিগারকে আর পাওয়া যাবে না।
তবে যদি তার আচরণকে আরও গুরুতর বিবেচনা করা হয়, তাহলে ১০৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে। সেখানে ‘শারীরিক আক্রমণ’-এর কথা বলা হয়েছে। পরিস্থিতি যদি আরও গুরুতর মনে করা হয়, তাহলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে।


















































