ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলের অমানবিক হামলার প্রতিবাদে ইসরাইলের সঙ্গে চলমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা স্থগিত করেছে যুক্তরাজ্য। একইসঙ্গে, ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া বার্তা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, মঙ্গলবার (২০ মে) হাউজ অব কমন্সে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি জানান, ইসরাইলের সঙ্গে নতুন একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা ২০৩০ সালের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের রোডম্যাপ পুনর্মূল্যায়ন করবো। নেতানিয়াহুর সরকারের পদক্ষেপই আমাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।”
ল্যামি আরও জানান, ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতকে ফরেন অফিসে ডেকে গাজার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে ‘অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে জানানো হয়েছে। তার ভাষায়, গাজার পরিস্থিতি এখন ‘নতুন এক অন্ধকার অধ্যায়ে’ প্রবেশ করেছে। সোমবার (১৯ মে) মাত্র কয়েকটি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে, যা ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক’।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, “নেতানিয়াহুর সরকার ইসরাইলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। আমরা বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও, ইসরাইল সরকার অব্যাহতভাবে নিন্দনীয় আচরণ করছে।”
তিনি আরও বলেন, “গাজা যুদ্ধ ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধ্য করেছে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার। এখনই অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ত্রাণ সহায়তা প্রবেশ করতে দিতে হবে।”
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মুখপাত্র ওরেন মারমোরস্টেইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বলেন, “বাইরের চাপ আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে বাধা হতে পারবে না। যারা আমাদের ধ্বংস করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “এই বাণিজ্য আলোচনা আগেই স্থবির ছিল। যুক্তরাজ্য যদি অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা ইসরাইলবিরোধী মনোভাবের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি করতে চায়, সেটি তাদের ব্যাপার।”
এর আগে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা যৌথ বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল—গাজায় সামরিক অভিযান ও ত্রাণ সহায়তায় বাধা বন্ধ না করলে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বর্তমানে গাজার প্রায় ২৪ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছে। ১০ সপ্তাহের অবরোধের পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরাইল গত রোববার (১৮ মে) সীমিতভাবে ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেয়। কিন্তু সোমবার (১৯ মে) মাত্র ৫টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করতে পারে, যেখানে প্রতিদিন প্রয়োজন অন্তত ৫০০টি।


















































