ভারত সরকারের হঠাৎ জারি করা নিষেধাজ্ঞার ফলে বেনাপোল স্থলবন্দরে তৈরি পোশাকসহ অন্তত ৩৬টি এবং অন্যান্য পণ্যবাহী শতাধিক ট্রাক আটকা পড়েছে। রোববার (১৮ মে) সরেজমিনে পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
বন্দর সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ২৫০–৩০০টি ট্রাকে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ট্রাকে থাকে তৈরি পোশাক। তবে শনিবার ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ থেকে স্থলবন্দর দিয়ে তৈরি পোশাক, সুতা, প্লাস্টিক, ফলসহ সাত ধরনের পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এতে রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে।
বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান এবং আমদানি-রপ্তানিকারক মোহাম্মদ রাজু ইসলাম জানান, এ নিষেধাজ্ঞার ফলে গার্মেন্টসসহ কয়েক প্রকার রপ্তানিপণ্যবাহী শতাধিক ট্রাক বন্দরে আটকা পড়েছে। আগেও ভারতের আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় তৃতীয় দেশে গার্মেন্টস রপ্তানিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল। এবার একতরফা এই সিদ্ধান্ত রপ্তানি খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে ফেলছে।
তারা বলেন, বেনাপোলের বদলে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে এসব পণ্য রপ্তানি করতে হলে খরচ দ্বিগুণ হবে এবং সময়ও বেশি লাগবে, ফলে বিদেশি ক্রয়াদেশ কমে যেতে পারে।
ভারতের পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, যেসব পণ্যের এলসি বা টিটি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে কাস্টমসে আলোচনা চলছে, তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার জানান, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি না পেলেও রোববার সকাল থেকে গার্মেন্টস বা প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানি হয়নি।
ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদফতর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও তৈরি পোশাকসহ নির্দিষ্ট সাত ধরনের পণ্য এখন থেকে কেবল কলকাতা সমুদ্রবন্দরের মাধ্যমে আমদানি করা যাবে।


















































